![]() |
| Collected from Facebook. |
প্রথম ভালোবাসা নাকি কখনো ভুলে থাকা যায় না ৷কিন্তু আমি তো তাকে ভুলে ভালোই আছি এখন ৷তাকে প্রথম দেখে ছিলাম আমাদের বাসার ছাদে ৷তখন আমি মাত্র ক্লাস নাইনে উঠেছি ৷আমার বাসা থেকে স্কুল খুব দুরে ছিল ৷যেতে আসতে অনেক কষ্ট হতো ৷তাই আব্বু স্কুলের কাছেই বাসা নিলেন ৷বাসার দুই তলা আর তিন তলায় বাড়ি ওয়ালা থাকতো ৷আমরা চার তলার ডান দিকের ইউনিটে ভাড়া উঠলাম ৷ বাবা বলেছে বাসার ছাদটা নাকি বেশ সুন্দর ৷তাই পরের দিন বিকেলের দিকে ছাদে গেলাম হাটতে ৷ ছাদে উঠতেই আমি কিছু সময়ের জন্য থমকে গিয়ে ছিলাম ৷কারন আমার সামনে সুদর্শন এক যুবক দাড়িয়ে আছে ৷ খোলা ছাদে সে আর আমি ছাড়া আর কাউকে দেখলাম না ৷তাই চলে এলাম ৷
দিন দুয়ের পরের কথা ৷আমাদের বাম দিকের ইউনিটে যারা ভাড়া ছিল ৷তার ছোট মেয়ে প্রেগনেন্ট ছিল ৷ হঠাৎ করেই ডেলিভারির সময় চলে আসে ৷এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় ৷তারা হাসপাতাল থেকে আসার পর জানতে পারি বাড়িওয়ালার বড় ছেলে নাকি ঐ আপুর সিজারের পর রক্ত দিয়েছে ৷আমার অবুজ মন তখন বাড়ি ওয়ালার বড় ছেলেকে দেখতে উতলা হয়ে উঠলো ৷
বেশ কিছু দিন পার হয়ে গেছে ৷এদিকে বাড়ীওয়ালার বউ আমাদের বাসায় বিকেলের দিকে আসে ৷কিছু রান্না করলে তার ছোট ছেলেকে দিয়ে পাঠিয়ে দেয় ৷আন্টি আমাকে অনেক আদর করে ৷আমাকে নাকি তার অনেক ভালো লাগে ৷আমার চুল গুলো তখন বেশ বড় ৷আন্টি যখনই আসতেন তখনই বলতেন আমি যেন চুল না কাটি ৷আন্টির সাথে কথার মাঝে জানতে পারি তার বড় ছেলের নাম সাবির হাসান তন্ময় ৷ জাহাঙ্গীর নগর ভার্সিটিতে পড়ে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে গনিত বিভাগ ৷ তার ছেলেটা নাকি সারা দিন বই পড়ে ৷কারো সাথে খুব একটা কথাও বলে না ৷তবে খুব ভালো নাকি ছবি আকতে পারে ৷ তাকে দেখার প্রবল ইচ্ছা বাড়তেই লাগলো ৷
বাড়ীওয়ালা আন্টিদের বড় একটা বাটি আমাদের বাসায় ৷ওটা খালি দেওয়া যাবে না ৷তাই একদিন আমার মা বিরিয়ানি রান্না করলো ৷বাটিতে বিরিয়ানি নিয়ে আমি গেলাম দুই তলায় ৷কলিংবেল দিলাম আমি ৷একটু পর খট করে দরজা খুলল ৷ কিন্তু দরজা খোলা মানুষটাকে আমি আগেও একবার দেখেছি ৷প্রথম যেই দিন ছাদে গিয়ে ছিলাম ৷ ঐদিনের সেই ছেলেটাই ৷ছেলেটা আমার দিকে কপাল কুচকে তাকলো ৷তারপর বলল
কি চাই ৷
সে ঘরের বড় ছেলে কিনা তা জানার জন্য আমি বললাম
আপনি কি তন্ময় ভাইয়া ৷
সে মাথা নেড়ে হ্যা জানালো ৷অতঃপর আমি তার হাতে বাটিটা দিয়ে চলে এলাম ৷আর বললাম আন্টিকে দিতে ৷আর বললাম চারতলার থেকে পাঠিয়েছে বললেই হবে ৷আমি নিজের বাসায় চলে এলাম ৷মনটা খুশি খুশি লাগছিল বড্ড ৷
এভাবে দিন যাচ্ছে ৷তন্ময় নামের সেই কথা কম বলা মানুষটার সাথেও প্রায় দেখা হয় ৷কিন্তু কথা হয় না ৷কিন্তু তার মা বাবা আমায় বড্ড আদর করে ৷সব সময় মা বলেই ডাকে ৷তন্ময় নামের মানুষটাকে ভালোই লাগতো ৷ তার একটা জিনিস আমার বেশি ভালো লাগতো ৷আর তা হলো সে তার মায়ের চুল বাধা, মাথা টেপা এমন ছোট ছোট সেবা করতো ৷বড্ড ভদ্র সভাবের ছেলে সে ৷আমার তাকে দেখলেই কেন যেন হৃদয় থেকেই হাসি আসতো ৷ দশম শ্রেনীতে উঠার আগেই বুঝতে পারি আমি তাকে ভালোবাসি ৷কিন্তু তাকে কিছুই বলি নি আমি ৷ তাকে দেখার জন্য প্রায় ছাদে যেতাম ৷ আন্টি আমাকে বাসায় নিয়ে গেলে আমার চোখ দুটো তাকেই খুজতো ৷ তাকে নিয়ে আমার ভাবনার শেষ ছিল না ৷দিন যাচ্ছে তার প্রতি ভালোবাসা শুধু গাঢ় হচ্ছে আমার ৷
আমি দশম শ্রেনী পেড়িয়ে কলেজে ভর্তি হবো ৷একদিন তাকে এক পলক দেখার জন্য ছাদে গেলাম ৷গিয়ে দেখলাম চেয়ারে বসে বই পড়ছে ৷আমি তার থেকে অনেকটা দূরে ৷হঠাৎ করেই সে আমার নাম ধরে ডাক দিল ৷তার মুখে প্রথমবারের মতো আমার শুনে এত আনন্দ হয়ে ছিল যা প্রকাশ করা সম্ভব না ৷ অতঃপর সে বলল
তোমার সাথে আমার কথা আছে ৷
আমি বললাম জ্বি বলুন ৷
সে বলল তুমি কি আমাকে পছন্দ কর ৷
আমার তখন খুব ভয় হচ্ছিল ৷কারন আমার বাবা জানলে মেরেই ফেলবে ৷সত্যি খুব ভয় করছিল ৷
সে আবারো বলল কি হলো বলো পছন্দ করো আমাকে ৷
আমি মাথা নেড়ে হ্যা সম্মতি দিয়ে ছিলাম ৷যেটা আমার জীবনের সব থেকে বড় ভুল ছিল ৷
তখন সে বলল একটা শর্তে তুমি আমাকে পেতে পারো ৷
আমার তখন নিজেকে সব থেকে সুখী মানুষ মনে হয়ে ছিল ৷সত্যি কি তাকে আমি পাবো ৷এটাও কি সম্ভব ৷আমি বেশি কিছু না ভেবে বললাম কি শর্ত বলুন ৷
সে বলল এখন থেকে আর ছাদে আসবে না ৷আমাকে দেখতে বাসায়ও যাবে না ওকে ৷
আমি রাজী হয়ে গিয়ে ছিলাম ৷তার পর থেকে তার সাথে কথা হতো ৷খুব একটা আমাদের কথা হতো না ৷সপ্তাহে দুবার কথা হতো আমাদের ৷পাচঁ মিনিটের বেশি কখনো কথা হয় নি ৷সে কখনো আমায় নিয়ে ঘুড়তে যায় নি ৷তার হাতে হাত রেখে হাটা হয় নি ৷সে কখনো আমায় গোলাপ দেয় নি ৷সে সব সময় আমাকে বেশি বেশি বই পড়তে বলতো ৷আমি যদি ভালো জায়গায় চান্স পাই তাহলে নাকি আমাকে তার মা বাবা মেনে নেবে ৷আমি তার কথা মতো খুব খুব বই পড়তাম ৷ সে কখনো আমাকে টাচ করে নি ৷ উল্টো দুরে দুরে থাকতো ৷সে প্রায় বলতো বিয়ের আগে গায়ে হাত দেওয়া নাকি ভালো না ৷তার এই কাজ গুলোর জন্য আমি আরো দুর্বল হয়ে গিয়ে ছিলাম ৷ঐভাবেই তিন বছর পেরিয়ে যায় ৷সে খুব একটা কথা বলতো না ৷কিন্তু আমার খোজ নিত কয়েক দিন পর পর ৷করোনার জন্য hsc পরীক্ষা হলো না ৷অবশেষে অট পাশ হয়ে গেলাম ৷তারপর ভর্তি পরীক্ষার জন্য লেখাপড়া শুরু করলাম ৷সে হেল্প করতো নোট দিয়ে ৷সে কথা দিয়ে ছিল ৷যদি আমি চান্স পাই তাহলে আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবে ৷সবই ঠিক ছিল ৷আমার ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট দিল ৷ অনেক বড় পাবলিক ভার্সিটিতে টিকে গেলাম ভালো সাবজেক্টও পেলাম ৷অবশেষে তাকে জানালাম ৷সে বিকেলে ছাদে দেখা করতে বলল ৷
আমি সময় মতো গেলাম ছাদে ৷অতঃপর সে বলতে শুরু করলো ৷তার কথা গুলো শুনে আমার কলিজাটা ক্ষত বিক্ষত হয়ে ছিল সেই দিন ৷
সে নাকি আমাকে ভালোবাসে না ৷আমি যাতে তার জন্য পাগলামি না করি তাই ওমন করেছে ৷সে ছাদে থাকার সময় আমি থাকলে লোকে সন্দেহ করবে তাই এমন করেছে ৷আমি নাকি অনেক বোকা ৷তা না হলে যেভাবে বলেছে আমি সেই ভাবেই চলেছি ৷সে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চায় না আমার সাথে ৷ আর তখন অবুঝ থাকলেও এখন নাকি আমি ভালো মন্দ বুঝি ৷তাই এখন সব পরিষ্কার করে বলছে ৷
আমি শুধু বলেছিলাম আমার অপরাধ কি ৷ আমি কি দেখতে খারাপ ৷নাকি ছাত্রী হিসেবে খারাপ ৷নাকি ফ্যামেলী ভালো না ৷নাকি আমার চরিত্র খারাপ
সে বলে ছিল আমি নাকি লাখে একটা মেয়ে ৷আর ছাত্রী হিসেবেও লাখে একজন ৷কিন্তু তবুও সে আমায় ভালোবাসে না ৷
আমি সেই দিন থেকে টানা একমাস শুধু কেদেঁই গেছি ৷আত্মহত্যা করতে গিয়েছি কয়েকবার ৷তাকে হয়তো লক্ষ বার কল দিয়েছি ৷তাকে শত শত মেসেজ দিয়েছি ৷কিন্তু সে রিপ্লাই দেয় নি ৷তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় আমি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ি ৷আমার বিছানা থেকে উঠতেও কষ্ট হতো ৷ঐ বাড়ীতে আমার শ্বাস আটকে আসতো ৷
একটা সময় নিজের মনকে বুঝাই ৷আর সে যে আমার নয় সেটাও মেনে নিলাম ৷অতঃপর একটু সুস্থ হওয়ার পর আমি আমার মাকে পুরো ব্যাপারটা জানাই ৷ আমার মা সেই দিন অনেক কেদেঁছে আমাকে ধরে ৷আমার মা তারপর ভুলভাল বাবাকে বুঝিয়ে বাসা ছেড়ে দেয় ৷তন্ময়ের মা বাবা কি সমস্যা তা জিঞ্জাসা করে ছিল ৷আমাদের থাকতে বলে ছিল ৷কিন্তু মা আর আমাকে নিয়ে থাকলেন না ৷আমি ফোন নাম্বার চেঞ্জ করলাম ৷তাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করলাম ৷কারন আমি বাচঁতে চাই ৷আর সেটা তাকে ছাড়াই ৷ আর প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিলাম ৷ঐ বাসা থেকে চলে আসার কিছু দিন আগে হঠাৎ একদিন মেসেঞ্জারে অচেনা একটা আইডি থেকে মেসেজ এলো ৷আমি রিপ্লাই ও করেছিলাম ৷কিছুক্ষন যেতেই বুঝতে পারি এটা তন্ময় ৷কারন সে আমায় বেনীওয়ালী বলে ডাকতো ৷ চুল কাটতে না করতো আমাকে ৷আমার বড় চুল নাকি তার বড্ড ভালো লাগে ৷ আর তাই বেনীওয়ালী বলে ডাকতো ৷ ঐ আইডি থেকে আসা মেসেজেও আমাকে বেনীওয়ালী বলে কথা বলতে লাগলো ৷যখনই বুঝলাম সে মেসেজ দিয়েছে ৷তাকে আমি ব্লক করে দিলাম ৷তিনটা বছর ঠকেছি আর ঠকতে চাই না আমি ৷
অতঃপর তাদের বাসা থেকে চলে আসার দিন চলে আসলো ৷আমাদের সব গুছানো শেষ ৷সব জিনিস নতুন বাসায় চলে গেছে ৷আমি সিড়ি দিয়ে নামার সময় তাকে দেখলাম নিচে ৷মানুষটা দাড়িয়ে আছে ৷তার দিকে একবারের বেশি তাকালাম না ৷আমি চলে এলাম ৷ঐ বাসা থেকে চলে আসার তিন দিন পর তন্ময় আমাদের বাসায় এলো ৷দরজা খোলার পর তাকে দেখে অবাক হলাম আমি ৷তার সাথে আংকেল আন্টিও এসেছে ৷আমি তার সাথে কোনো কথা বলি নি ৷আন্টির সাথে কথা বলে ঘরে চলে গেলাম ৷
রাতে পুরনো সিমটা অন করলাম ৷একটু পরেই দেখলাম তার মেসেজে ফোন ভর্তি ৷তার মেসেজ গুলো পড়ে আমার বুক ফেটে কান্না এসে ছিল ৷ আমি এখন আর তার কথায় গলবো না ৷তাই রিপ্লাই করলাম না ৷তার কিছু দিন পরে তাকে আমাদের বাসার নিচে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছি ৷কিন্তু কথা বলি নি ৷
আজ টিউশন করিয়ে বাসায় আসছিলাম ৷মাঝ রাস্তায় দেখা ৷বাইক নিয়ে দাড়িয়ে আছে ৷আমি দেখেও দেখলাম না ৷তাকে রেখে চলে আসার সময় শুনতে পেলাম সে বলছে
কেমন আছো ৷
উত্তর দিলাম না ৷কারন আমি কথা বললে লোকে দেখবে ৷তার সম্মান নষ্ট হবে ৷যা আমি চাই না ৷সে ভালো থাকুক শুধু ৷তাকে দেখতে ইচ্ছে করলে তার ছবি দেখবো ৷তার কন্ঠ শুনতে ইচ্ছে করলে পুরনো রেকর্ডিং না হয় শুনবো ৷তবুও সে ভালো থাকুক ৷তার ভালোর জন্যই তো তার সব কথা শুনলাম ৷শেষ কথাটাও না হয় শুনি ৷
দয়া করে কেউ বলবেন না next ৷এটা কাল্পনিক নয় ৷আপনাদের লেখিকা আপুর ভালোবাসার গল্প 😊😊😊😊😊😊 ৷ আজ ফেরার পথে তাকে দেখার পর আধা ঘন্টা ধরে কাদঁছি ৷তাই বললাম কষ্ট গুলো ৷
ভালো থেকো তুমি
আফরিন ইসলাম
সমাপ্ত
This post was collected from Facebook page : সাহিত্যের ছোঁয়া

Osum
ReplyDelete